মেহেরপুর প্রতিনিধি।।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের শতভাগ হাজিরা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রনিক হাজিরা বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। নিন্মমানের হওয়াই কোন কাজেই আসছেনা বায়োমেট্রিক ডিভাইসগুলো।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থ (স্লিপের টাকা) দিয়ে শিক্ষক নেতাদের মাধ্যমে বাজার মূল্যের দ্বিগুন টাকায় ডিভাইসগুলো ক্রয় করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিভাইস ক্রয়ে অনিয়মের বিষয়ে কানাঘুষা হলেও প্রথমে কোন অভিযোগ হয়নি। ডিভাইস অকেজো হয়ে গেলে শিক্ষক হাজিরার বিষয়ে টনক নড়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কর্মকর্তাদের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোজ নিয়ে দেখা যায়, গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলার ১শ ৬২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪০ বিদ্যালয়ের জন্য ১৬ লাখ ৮০হাজার টাকা ব্যায়ে বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়। যে সকল বিদ্যালয়ে পরিচালনা পরিষদ নেই সে সকল বিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত স্লিপের টাকা পায় না। বরাদ্দকৃত টাকা থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয়ের নির্দেশনা আসে। বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয়ের নির্দেশনা পাবার সময়ও প্রতিষ্ঠানগুলো স্লিপের টাকা না পাওয়ার কারনে উপজেলার শিক্ষক নেতারা নিয়মের বাইরে মেশিন ক্রয় করতে সক্রিয় হন। টাকা না দিয়ে অগ্রিম মেশিন ক্রয় করতে বায়োমেট্রিক মেশিন সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে আতাত করে নি¤œমানের ববায়োমেট্রিক ডিভাইস দ্বিগুন দামে ক্রয় করেন।
তবে এধরনের ডিভাইস কেনো ক্রয় করা হলো জানতে চাইলে কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানই কিছু বলতে চাননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে ডিভাইসের মূল্য জানতে চাইলে তিনি ডিভাইসের মূল্য বাবদ ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানান। তবে কোথা থেকে ডিভাইস কেনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানেনা বলে জানান। একজন সহকারী শিক্ষক জানান ডিভাইস কেনার জন্য বিভিন্ন ইউনিটের শিক্ষক নেতারা একত্রিত হয়ে সকল স্কুলের এক সাথে কেনা হয়েছে তবে সে মেশিনগুলো অকেজো হয়ে গেছে। শিক্ষক নেতাদের শর্ত অনুযায়ী একত্রে সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিভাইস সরবারহ করেন মুজিবনগর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ডেপুটেশনে) সহকারী শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান খান সোহাগের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বায়োমেট্রিক ডিভাইস সরবরাহকারী ডিলার কম্পিউটার মেটের কাছ থেকে ডিভাইসসহ সার্ভিস বিক্রয় হয়েছে ১২ হাজার টাকায়।গাংনী উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, কোম্পানীর লোক এসেছিলো যে যার পছন্দের ডিভাইস কিনেছে। সরবারাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ডিভাইসগুলো কত টাকা মূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে জানতে চাইলে জানান প্রতিটি ৬ হাজার টাকা দামে ১৪০ টি ডিভাইস ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি চালু করার। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১ লা জুলাই থেকেই মেশিনে হাজিরার কথা তবে নির্ধারিত সময়ে তা চালু করা সম্ভব হয়নি।
গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এহসানুল হাবিব জানান যে মেশিন ক্রয় করা হয়েছে সে মেশিনে শিক্ষক হাজিরা সরাসরি সার্ভারে যাবেনা। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বলা হয়েছে মেশিন চালু করতে। মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে রহমান, অকেজো হওয়া বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি এবং এই বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম ও অকেজো হওয়ার কারনে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের ২০১৯ তারিখের মধ্যে এই ডিভাইসগুলো সচল না করা হলে পরবর্তীতে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।